
কথা২৪ । বরিশাল প্রতিনিধি
সরেজমিনে দেখা যায়, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে লোডশেডিংয়ের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর ও আইপিএস থাকলেও, দুটিই কার্যত অচল। দুই বছর ধরে জেনারেটর অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। আইপিএস থাকলেও এর ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেটিও চালু নেই। ফলস্বরূপ, বিদ্যুৎ না থাকলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়।
এ অবস্থায়, মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে রোগীদের সেবা নিতে হচ্ছে। গরমে অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনেরা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। একই সাথে, খাবার ও ওষুধ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। অনেক রোগী জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত ওষুধ পাচ্ছেন না।
পাখিমারা এলাকা থেকে আসা রোগী সবুজ বলেন, “প্রচন্ড গরমে সেবা নিতে এসে বিদ্যুতের অভাবে আরো অসুস্থ হয়ে পরছেন তিনি।” তিনি দ্রুত হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার মন্তব্য করেন।
এক রোগীর স্বজন আক্ষেপ করে বলেন, “এতো কষ্ট করে কেমনে থাহে হাসপাতালে? বিদ্যুৎ নাই, বাতি নাই, বাতাস নাই। এতো সমস্যার মধ্যে কেমনে থাকে? রোগীর সাথে এসে তিনি নিজেই এখন রোগী হয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “একটু ঔষুধ দেয়না ঠিকমত। কোন ঔষুধই নাই, সব নাকি খালি হয়ে গেছে। এটা কেমন হাসপাতাল?”
জানতে চাইলে, কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. বিকাশ রায় বলেন, “গত দুই বছর ধরে জেনারেটর ব্যাটারি অকার্যকর এবং সরকারিভাবে তেলের বাজেট না দেয়ায় জেনারেটরটি এখন বন্ধ রয়েছে। লোড শেডিংয়ের সময়ে জেনারেটরের বিকল্প হিসেবে আইপিএস চলমান থাকে। সেটার ব্যাটারিও হঠাৎ নষ্ট হয়েছে। অতিদ্রুত আইপিএস’র ব্যাটারি ঠিক করে হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। আপাতত লোড শেডিংয়ের সময়ে এনার্জি সেভিং বাল্ব দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।”
খাবার ও ওষুধ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে, তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।